কোনো যুদ্ধ বন্ধ না করেই ড. ইউনুস শান্তিতে নোবেল পেলেনঃ সৈয়দ আশরাফুল

এনএনবি: গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হিলারি ক্লিনটনের উদ্বেগ প্রকাশের পাঁচ দিনের মাথায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল জয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আশরাফ বলেন, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি আর বিদেশ থেকে লিল্লার টাকা এনে এনজিও করে দেশের উন্নয়ন হয় না। ক্ষুদ্র ঋণে আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। একশ বছরেও বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না- ক্ষুদ্র ঋণে। ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল জয় নিয়েও সমালোচনার তীর ছোঁড়েন আশরাফ। তিনি বলেন, তার (ইউনূস) বেসিক সাবজেক্ট ছিল অর্থনীতি। তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন না। কোনো যুদ্ধ বন্ধ না করেই তিনি শান্তিতে নোবেল পেলেন। নোবেল কীভাবে আসে- তা আমাদের এখানে অনেকেই জানেন। এ প্রসঙ্গে আয়ারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের নোবেল জয় এবং এর দুই উদ্যোক্তার বিরোধের ঘটনা নিজের ভাষায় অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই মহিলা মাদারল্যান্ড পিস নামের একটি সংগঠন করে। এই সংগঠন করার দুই মাসের মধ্যে তারা শান্তিতে নোবেল পান। আর নোবেলের টাকা নিয়ে ওই দুই মহিলার মধ্যে ঝগড়া লাগে। তিন মাসের মধ্যে তাদের ঝগড়া আদালতে গড়ায়। আর শান্তি থাকে না। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত বছরের ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের পদ থেকে ইউনূসকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইউনূস এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গেলেও উচ্চ আদালতের রায় তার বিপক্ষে যায়। দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসে গত ৭ মে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটন বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে ইউনূসের পদ নিয়ে ‘বিরোধের’ বিষয়টি তিনি ওয়াশিংটন থেকে লক্ষ্য করেছেন। তিনি আশা করেন, সরকার এমন কিছু করবে না যাতে গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আড্ডা উইথ বাংলাদেশ’ নামে হিলারির ওই অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে আশরাফ বলেন, তিনি টাউন হল স্টাইলে অনুষ্ঠান করলেন। তথাকথিত ইয়াংদের সঙ্গে বৈঠক করলেন। কলকাতায়ও একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। তার ২/৪ দিন আগে থেকে অনুষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে অনুষ্ঠানটি হওয়ার আগের দিনও আমরা জানতাম না। কলকাতার মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না উল্লেখ করে আশরাফ বলেন, সেখানে বিশ্বমন্দা বা ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছে। আর আমাদের এখানে সঞ্চালক আগে থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রশ্ন শিখিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশকে ছোট, দরিদ্র ও অগণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।