রোগ প্রতিরোধে ফল

কৃষি প্রতিবেদক \ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয় কিন্তু বাংলাদেশে মোট আয়তনের মাত্র ১৬ ভাগ বনভূমি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ রোধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, কাঠ ও ফলের যোগান দিতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। আবার শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ, শরীর গঠন, রোগ প্রতিরোধ এবং বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও ফলের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে খাবার উপযোগী প্রায় ১০০ প্রজাতির ফল রয়েছে। তবে দেশের সর্বত্র পাওয়া যায় এমন ফলের সংখ্যা ৬০’র মতো। অবশ্য এসব ফল মৌসুম ভিত্তিক। মৌসুম ভিত্তিক এ সব ফল খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতী গঠন সহজ হবে। কদবেলঃ আঞ্চলিক নাম কদবেল, ইংরেজি নাম এলিফ্যান্ট ফোট এ্যাপেল এবং বৈজ্ঞানিক নাম ফেরোনিয়া লেমোনিয়া। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি স্থানীয় জাতের কদবেল চাষ হয়ে থাকে। এর কোন অনুমোদিত জাত উদ্ভাবিত নাই। পুষ্টিগুণঃ কদবেল ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ কদবেল যকৃত এবং হৃতপিন্ডের বল বৃদ্ধি করে। বিষাক্ত পোকা কামড়ালে ক্ষত স্থানে ফলের শাঁস ও খোসা গুড়ো করে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। কচি পাতার রস দুধ বা মিছরির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে শিশুদের পিত্ত রোগ ও পেটের নানা রোগ ভাল হয়। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে জলীয় অংশের পরিমান ৮৫.৬ গ্রাম। খনিজ পদার্থ ২.২ গ্রাম, আঁশ ৫.০ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালরী, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.৮০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.০৩ মিলিগ্রাম, এবং ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্রাম। ব্যবহারঃ কদবেল কাচা ও পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়। কদবেলের শাঁস, খোসা ও কচিপাতা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়। কদবেল থেকে আচার ও চাটনী তৈরি হয়। রোপনকালঃ বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত কদবেল চারা রোপনের উত্তম সময়। তবে ভাদ্র আশ্বিন মাসেও চারা রোপন করা যায়। চারা থেকে চারার দুরত্ব ৮ মিটার। চারা রোপনের জন্য ৭৫ ঘন সেন্টিমিটার গর্ত করতে হয়। সার ব্যবস্থাপনাঃ গর্তের নিচের অর্ধেক মাটির সাথে ১৫-২০ কেজি শুকনো গোবর সার, ৫০০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে পরে চারা রোপন করতে হবে। ফল ধারনঃ চারা রোপনের ৫-৬ বছরের মাথায় গাছ ফল দিতে সক্ষম হয়। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছ ২০-২৫ ফুট লম্বা হয় এবং একটি গাছে বছরে ৩-৫শ ফল পাওয়া যায়। উৎপাদন এলাকাঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি কদবেল চাষ হয়। তবে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে কদবেল চাষ হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয় কিন্তু বাংলাদেশে মোট আয়তনের মাত্র ১৬ ভাগ বনভূমি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ রোধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, কাঠ ও ফলের যোগান দিতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। আবার শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ, শরীর গঠন, রোগ প্রতিরোধ এবং বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও ফলের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে খাবার উপযোগী প্রায় ১০০ প্রজাতির ফল রয়েছে। তবে দেশের সর্বত্র পাওয়া যায় এমন ফলের সংখ্যা ৬০’র মতো। অবশ্য এসব ফল মৌসুম ভিত্তিক। মৌসুম ভিত্তিক এ সব ফল খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতী গঠন সহজ হবে। (তথ্যসুত্র-বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্যসার্ভিস)