আজ ছাত্রনেতা হাসান জামান লালন’র ২২ তম মৃত্যু বার্ষিকী

নিজ সংবাদ ॥ আজ ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সাবেক ছাত্রনেতা কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম. আ. রহিমের কনিষ্ঠপুত্র হাসান জামান লালন এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। হাসান জামান লালন এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৪ টায় কুষ্টিয়া শহরস্থ হাসান জামান লালন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে (ফুড গোডাউনের পাশে) স্মরণ সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। উক্ত অনুষ্ঠানে হাসান জামান লালন এর পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া শহরের বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কুষ্টিয়া পৌর এলাকার মিলপাড়া ওয়ার্ডের সাবেক সফল কমিশনার ও কুষ্টিয়া পৌরসভার সর্বপ্রথম জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রয়াত চেয়ারম্যান ম. আ. রহিম আর মাতা জাহানারা বেগমের চার ছেলে মেয়েদের মধ্যে হাসান জামান লালন ছিল সকলের খুব প্রিয় ও স্নেহের। এই শহরের প্রয়াত সমাজ সেবক জেহের আলী মন্ডল সাহেবের নাতী হাসান জামান লালন খুব ছোট থেকেই ছিলেন একটু রাজনীতি সচেতন ও প্রগতিশীল। ১৯৭২ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর এ রকম আশ্বিনের শুভ দিনে  পৈত্রিক নিবাস মীর মোশাররফ হোসেন সড়কের ছায়ানীড়ে হাসান জামান লালনের জন্ম হয়। ১৯৮০ সালে শহরের মিশন স্কুলে লালন ১ শ্রেণিতে ভর্তি হবার মধ্যে তার শিক্ষার জীবনের শুরু। এরপর ১৯৮৩ সালে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৯০ সালে জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বে সাথে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৯২ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এ.সি পাশ করেন এবং ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ১৯৯০ সাল থেকেই তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন। এই সুবাদে ১৯৯১ তে তিনি সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক বিরোধী আন্দোলনের সাথে নিবিড় ভাবে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মেধা ও মননশীলতার জন্য হাসান জামান লালন ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু দিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক পরিচয়ে হাসান জামান লালন এই শহরের সমাজ সেবক ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব জেহের আলী মন্ডলের পৌত্র। মন্ডল পরিবার কুষ্টিয়া শহরের একটি প্রগতিশীল পরিবার হিসাবে বিশেষভাবে পরিচিত। হাসান জামান লালনের প্রয়াত পিতা ম. আ. রহিম ছিলেন অতিশয় সজ্জন, অমায়িক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। যিনি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। হাসান জামান লালন’র চাচা কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ম. মনিরুজ্জামান। হাসান জামান লালন’র বড় ভাই আখতারুজ্জামান একজন ব্যবসায়ী ও দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালক। দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সাবেক পরিচালক রাকিবুজ্জামান সেতুর চাচা। হাসান জামান লালনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের মধ্যে। প্রগতিশীল ও সাংস্কৃতিবান মন্ডল পরিবারকে ঘিরেই পরিচালিত হয়েছে আড়ুয়াপাড়া তরুণ সংঘ পাঠাগার এবং মিতালী পরিষদের মত সাংস্কৃতিক সংগঠন। এই পরিবেশের মধ্যে হাটি হাটি পা-পা করে লালন মিশন ও জিলা স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯০’ তে প্রবেশ করে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে। তরুণ  লালন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বৃহৎ পরিমন্ডলে ছাত্র-ছাত্রী, ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষকদের সহচর্যে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে পরিণত হন এক প্রতিশ্র“তিশীল এবং সম্ভাবনাময় তরুন নেতৃত্বে। কেবল মাত্র ছাত্রলীগের কলেজ কমিটিতেই নয় জেলা ছাত্রলীগের এক সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিণত হন হাসান জামান লালন। আমাদের দূর্ভাগ্য ১৯৯৬ সালে ২৯শে সেপ্টেম্বর এই সম্ভাবনাময় তরুনের জীবন অবসান ঘটে। ভারতে দার্জিলিং এ ভ্রমন করতে গিয়ে টাইগার হিলে এক মর্মান্তি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। দীর্ঘ ২১ বছর অতিক্রান্ত হলেও তরুন এ ছাত্র নেতার স্মৃতি কেবল তার পরিবারের মধ্যে নয় আমাদের মধ্যেও সমুজ্জল হয়ে রয়েছে।