কুষ্টিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সাঈদীর মুক্তির বিষয়ে গোপন বৈঠক চলাকালে জামায়াত-শিবিরের ২১ নেতা-কর্মী আটক

১৯টি ককটেল উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ২১ জন নেতা-কর্মিকে আটক করেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে নয়টার সময় কুষ্টিয়া শহর সংলগ্ন হাটশ হরিপুর এলাকায় গড়াই নদীর পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, আটককৃতরা সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। এরমধ্যে জামায়াতের এক  রোকনের আমন্ত্রণে তারা সবাই জড়ো হয়েছিল। এরা সবাই কুষ্টিয়া,  মেহেরপুর, পাবনা ও নাটোর জেলার বাসিন্দা। আটকের সময় তাদের  হেফাজতে থাকা ১৯টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারটায় মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

ওসি নাসির উদ্দিনের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটায় তারা  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, শহর সংলগ্ন গড়াই নদীর পাড়ে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকায় জামায়াত-শিবিরের প্রায় ২৫  থেকে ৩০ লোক অস্ত্র ও বোমা নিয়ে অবস্থান করছে। তাৎক্ষনিকভাবে ডিবি ও থানা পুলিশ নিয়ে সেখানে অভিযানে যাওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ২১জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১৯টি ককটেল বোমা। ওসি আরও জানান, আটককৃতরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা সেখানে গোপন বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে কিভাবে তাকে বের করা যায় সে ব্যপারে ষড়যন্ত্র করছিল। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝিলা গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর রোকন ইব্রাহীম খলিল (৩৯) সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, কুষ্টিয়ার শাকিরুল ইসলাম (৩৭), শহিদুল ইসলাম (২৮), আবুল কালাম মোঃ শফিউল্লাহ (৪৩), তানভীর হুসাইন (২০), আহসানুর রহমান (২৪), কাওসার হোসেন (৩৮), আবদুল ওয়াহেদ (১৮), আমির হামজা (৩৬), ইব্রাহীম খলিল (৩৯), মওলানা মুফতি মো. আলী হুসাইন ফারুকী (৪৩), নজিবুর রহমান (৩৫), আল আমিন হোসেন (২৪), মওলানা মো. ওসমান গণি (২৮), মওলানা মো. আবদুল কাদের (৩৬), ইমামুল হাসান জিয়া (৪০), এইচ এম শামসুর রহমান (৪৮), মেহেরপুরের হাবিবুর রহমান (২৯), নাজমুল হক (৪২), জাহাঙ্গীর আলম (৩৪), পাবনার আফসার আলী (৫০) ও নাটোরের হারুন অর রশিদ (৩৫)।

বেলা সাড়ে এগারটার দিকে প্রিজনার্স ভ্যানে তুলে আটককৃতদের আদালতে নেওয়া হয়। থানা চত্বরের ভেতরেই তাদের আত্বীয় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় উম্মে সওদা নামে এক নারী তার ভাই তানভীরকে প্রিজর্নাস ভ্যানে দেখে মাটিতে পড়ে পড়েন। পরে কান্না করতে করতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাই তানভীর কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে পড়েন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকার হুজুর শাকিরুলের আমন্ত্রণে তার কাছে গিয়েছিল।