বাংলাদেশ-ভারত শিরোপার লড়াই আজ

এশিয়া কাপের ১৪তম আসর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইতিহাস আবারও ডাকছে বাংলাদেশকে। এখন পর্যন্ত কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। সেটি জিততে এ জন্য ভারতের একটি খারাপ দিনের অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে। ভালদিন যেতে যেতে একটি খারাপ দিন আসেই। আজ কী ভারতের সেই খারাপ দিন হয়ে আসবে? এসে পড়লেই তো দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ গভীর রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা উৎসবে মাতবেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হওয়া ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতার আনন্দে আত্মহারা হবেন মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহরা। সেই উৎসবের রং দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আনাচে-কানাচে লেগে যাবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে মাতবেন। আজ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচ। দুই দলের মধ্যে যে শিরোপার লড়াই আজ। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা শিরোপা জেতায় আশাবাদী। ভারত শক্তিশালী দল। তা তিনিও জানেন। তবে ভারতকে হারানো যে অসম্ভব নয়। তাও জানা। তাই তো মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি আশাকরি শুক্রবার (আজ) ছেলেরা তাদের নিজেদের আসল সামর্থ্য দেখাবে।’ সেই সামর্থ্য দেখাতে পারলেই যে কুপোকাত হবে ভারত। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক তো বলেই দিয়েছেন, ‘অবশ্যই আমরা পারব (ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে)। আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। আমরা এখনও নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি। এখনও তিন বিভাগ একসঙ্গে জ্বলে ওঠেনি। টপঅর্ডার ভাল করছে না। এগুলো সব যদি ভারতের বিপক্ষে জ্বলে ওঠে তাহলে না পারার কারণ নেই।’ সত্যিই তাই। সব বিভাগ যেদিন বাংলাদেশের নৈপুণ্যের মধ্যে থাকে সেদিন কোন প্রতিপক্ষই কুলিয়ে উঠতে পারে না। আজ সেই দিনটি হলেই হয়। ভারত এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোন ম্যাচে হারেনি। অপরাজিত থেকেই ফাইনালে খেলছে। বাংলাদেশের মিশ্র অভিজ্ঞতা আছে। জিত-হারের মধ্যেই গেছে। ফাইনালে শেষ পর্যন্ত খেলছে। এমন এক দলের বিপক্ষে খেলবে যে ভারত দলটির বিপক্ষে ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টটি হয়েছিল টি২০ ফরমেটে। তবে ফাইনাল নিয়ে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ভেতর চাপা কষ্ট আছে। একের পর এক ফাইনালে গিয়ে শিরোপার এত কাছে গিয়েও যে আর তা ছোঁয়া হয়নি। ভারতের বিপক্ষে এ বছর নিদাহাস ট্রফিতেও তো একই অবস্থা হয়েছে। ফাইনালে গিয়ে হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট খেলে ১৯৮৬ সাল থেকে। ২০০৬ সাল থেকে খেলে টি২০। কিন্তু কোন ফরমেটের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুটি টুর্নামেন্ট টি২০ ফরমেটের। প্রতিবারই রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে তিনজাতি টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ফাইনালে ২ উইকেটের কষ্টের হারের পর ২০১২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের কান্নাভেজা হার হয়। এরপর ২০১৬ সালে টি২০ ফরমেটের এশিয়া কাপে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হার হয়। এ বছর দেশের মাটিতে তিনজাতি টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭৯ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। টি২০ ফরমেটের নিদাহাস ট্রফিতেও ভারতের কাছে ৪ উইকেটে হারে। সর্বশেষ এশিয়া কাপের হিসেব কিংবা সর্বশেষ বাংলাদেশ খেলা ফাইনালের হিসেবে ভারতের কাছেই হার হয় বাংলাদেশের। ফাইনালের ‘চোকার’ যেন হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবার ভারতকে হারিয়ে দিতে পারলেই হয়। একটি ম্যাচেও ভারত হারেনি। আজ খারাপ দিনটির দেখা পেলেই হয়। বাংলাদেশের ভাল দিন মিললেই হয়। তাহলেই শিরোপা ঘরে তুলবে বাংলাদেশ। ইতিহাসও গড়বে। এখন পর্যন্ত কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারেনি যে বাংলাদেশ। অবশ্য এত সহজ নয়। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, আম্বাতি রায়ড়–রা যে এ টুর্নামেন্টে কতটা ভাল ব্যাটিং করছেন তাতো প্রতিটা ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে। আবার বল হাতে জাসপ্রিত বুমরাহ, রবীন্দ্র জাদেজা, ভূবনেশ্বর কুমার, যুবেন্দ্র চাহালরা তো প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ছন্নছাড়া করেই যাচ্ছেন। ভারত আবার ফাইনালের আগে দুইদিন নিজেদের তৈরি করার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা বুধবার ম্যাচ খেলে আজই আবার ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে নামবেন। মাঝখানে একদিন নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পেয়েছেন। দলে নেই আবার তামিম ও সাকিব। তামিম আগেই ছিটকে পড়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সাকিবও ছিটকে পড়েছেন। তাতে স্বাভাবিকভাবেই এত বড় ম্যাচের জন্য এত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দল দুর্বলই হয়ে পড়েছে। তবে সুযোগ কয়দিন মিলল। কে আছে, কে নেই; সেই বিবেচনা অনেক সময়ই হিসেবে আসে না। যেমনটি পাকিস্তানের বিপক্ষেও আসেনি। দিনটি যদি বাংলাদেশের থাকে তাহলে ভারত যতই শক্তিশালী হোক, হার হতেই পারে। ভারতের বিপক্ষে ৩৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। চারটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ২৯টি ম্যাচে হেরেছে। একটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। তবে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটি ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ। জিত-হারের হিসেবে খুব বেশি পার্থক্য কিন্তু নেই। ভারতকেও যে হারানো যায় তা কিন্তু ২০১৫ সালে সিরিজে ভারতকে হারিয়ে বুঝিয়েছে বাংলাদেশ। এখন মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, ইমরুল, মিঠুনদের সঙ্গে ওপেনাররা এবং নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা নিজেদের মেলে ধরতে পারলেই হয়। সঙ্গে আঙ্গুলে চোট থাকার পরও খেলার সিদ্ধান্ত নেয়া মাশরাফি, মুস্তাফিজ, রুবেল, মিরাজরা বল হাতে ভারত ব্যাটসম্যানদের ভোগাতে পারলেই হলো। তাহলেই ইতিহাস রচনা হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের। আজ বাংলাদেশ-ভারত শিরোপা লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন দলটি বাংলাদেশই হয়ে যেতে পারে।