কুমারখালীতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় খামারী জীবন্ত মুরগী বিক্রেতা ও স্থানীয় বাজারের ভূমিকা শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় খামারী, জীবন্ত মুরগী বিক্রেতা ও স্থানীয় বাজারের ভুমিকা শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোকাশ প্রোগ্রামের কারিগরী সহায়তায় ও ইউকে এইড এর আর্থিক সহায়তায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন এই পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহীন্জ্জুামান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণি সম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা: মো: নাহিদ হাসান, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নওশের আলী বিশ্বাস। এ ছাড়াও কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মুরগী খাদ্য বিক্রেতা (ডিলার) প্রভাষক স্বাধীন হোসেন, খামারী এস, এম ফয়সাল সহ জীবন্ত মুরগী বিক্রেতা, খামারী ও ভোক্তারা। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর ডলি ভদ্র। এ কর্মশালায় ভোক্তা কমিটির সদস্য, খামারী, ডিলার, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বনিক সমিতির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় স্থানীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ভোক্তা কমিটির সদস্য, খামারি, পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা ও ডিলারদের সাথে যৌথভাবে কাজ করে সরকারের মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে সহযোগীতা করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়াও মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন এবং নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় উল্লেখ্য করা হয় যে, দিনে দিনে ব্রয়লার মুরগী পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছে বেকার যুব সমাজ। ফলে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করছে। আর দেশে প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার প্রায় ৪৫ ভাগ পোল্ট্রি সেক্টর পূরণ করে। তুলনামূলক মূল্য সস্তা হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের মূল উৎস হচ্ছে পোল্ট্রি। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকদের ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যের বিবেচনায় পোল্ট্রি সেক্টর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নি¤œমানের পোল্ট্রি ফিড, পোল্ট্রি ফিডে মাত্রাতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পোল্ট্রি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে। উল্লেখ্য, নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনের লক্ষ্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে এই প্রকল্পটি নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও প্রকল্পটি মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ এবং নিরাদ খাদ্য আইন-২০১৩ বাস্তবায়নেও এই প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।