জৌলুস নেই নার্সারী ব্যবসার

এস কে বাশার ॥ আগের মতো জৌলুস নেই নার্সারী ব্যবসার। পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা। ব্যাপক চাহিদা ছিল ক্রেতাদের মাঝে। প্রতিদিন হাজার হাজার বৃ চারা বিক্রি করত এক এক নার্সারী প্রতিষ্ঠান। বিক্রিকৃত চারার মধ্যে বনজ চারাই ছিল বেশি। তবে ফলজ বৃও বিক্রি হতো, তুলনামূলক কম। বৃ চারা ব্যবসা ভাল চলায় গ্রাম কিংবা শহরতলীতে গড়ে ওঠে নার্সারী প্রতিষ্ঠান। জলবায়ুর উষ্ণতা জনিত প্রাকৃতিক পরিবর্তন রোধে মানুষ বৃ রোপণের দিকে ঝুকে পড়ে। সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধন্যাঢ্য ব্যাক্তিও বৃ চারা বিতরণের উদ্যোগী হয়। অনেকে আবার এক বছর আগে থেকেই বৃ চারা বিতরণের প্রস্তুতি লে নিজস্ব জমিতে পলিব্যাগে বীজ বপনের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করতে থাকে। বিনামূল্যে চারা প্রাপ্তির কারণে সাধারণ মানুষ নার্সারী বিমুখ হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই ভাটা পড়েছে নার্সারী ব্যবসায়। চলতি বছর বিএটিবি বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় ১৫ লাখ ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করবে। বিএটিবির একাধিক নিজস্ব নার্সারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিজস্ব নার্সারীতে উৎপাদিত চারাই এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিতরণ করা হয়। এদিকে জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের বৃ চারা বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ করা হবে কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের মাধ্যমে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মাদ নিশাদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে সরকার জলবায়ু ট্রাষ্ট বোর্ডের আওতায় কুষ্টিয়া মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ ল্যমাত্রা নির্দ্ধারণ করে দিয়েছে। বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণের মাঝে এ চারা বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে কুষ্টিয়া জেলায় ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০টি, মেহেরপুর জেলায় ১ লাখ ৪০০০ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ লাখ ৬০০০ চারা বিতরণ করা হবে বলে জানান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। এরকম আরো এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাক্তি উদ্যোগেও বৃ চারা বিতরণ করা হচ্ছে। আর এসব কারণেই নার্সারী ব্যবসায় ধ্বস নামছে বলে জানান বিভিন্ন নার্সারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। কুষ্টিয়ার সর্বাধিক পরিচিত আকাবা নার্সারীর মালিক ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, একমাত্র ফলজ বৃ ছাড়া বনজ বৃ চারা ক্রয় করতে এখন আর সাধারণ মানুষ নার্সারী মুখী হয় না। তিনি বলেন, দু’তিন বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে নার্সারী থেকে মেহগণী, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ চারা কিনে নিয়ে হাটে বাজারে বিক্রি করত। এখন সে ধারার পরিবর্তন হয়েছে। ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, বৃ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছর বৃ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায়ও আগের মতো লোক সমাগম হয় না। মেলার ১০ দিন আগে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ধারাও পরিবর্তন হয়েছে। প্রচার না থাকায় বৃ মেলায়ও লোক সমাগম হয় না। কুষ্টিয়া শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠা অনেক নার্সারী ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। নার্সারী প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে সরকারেরও কোন উদ্যোগ অদ্যবধি পরিলতি হয়নি। বর্তমানে নার্সারীতে বিভিন্ন প্রজাতির হাইব্রিড, ইনব্রিড, দেশী ও বিদেশী প্রজাতির ফলজ চারা উৎপাদন হলেও তার বিক্রি খুবই কম। আর এ কারণে নার্সারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন লোকসানের শিকার হয়ে বন্ধের মুখে।